Tuesday, February 19, 2013

রাজাকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম. খা. আলমগীরসহ আ'লীগে থাকা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে হবে -কাদের সিদ্দিকী

যুদ্ধাপরাধের বিচার গণতন্ত্র নস্যাতের অংশ কি না আশঙ্কা
 
রাজাকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম. খা. আলমগীরসহ আ'লীগে থাকা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে হবে -কাদের সিদ্দিকী
 
সিলেট ঃ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী সোমবার সিলেটে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন
সিলেট ব্যুরো : গত সোমবার রাতে নগরীর একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি, ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের বীর সেনানী বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজাকার মখা আলমগীর ও শ্রমমন্ত্রী মোশাররফসহ আওয়ামী লীগে থাকা সকল যুদ্ধাপরাধীর বিচার করতে হবে। তিনি বলেন, ব্লগার রাজীব হত্যার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাসায় গিয়ে পরিবার পরিজনদের সান্ত্বনা দিতে গিয়ে বললেন, জামায়াতের এদেশে রাজনীতি করার কোন অধিকার নেই। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় বিশ্বজিৎ হত্যার পর কেন প্রধানমন্ত্রী বললেন না ছাত্রলীগের রাজনীতি করার অধিকার নেই। তিনি বলেন, ঢাকার বিভিন্ন স্কুল থেকে কোমলমতি অবুঝ ছাত্র-ছাত্রীদের জোর করে ধরে এনে শাহবাগের সংহতি প্রকাশ করানো হচ্ছে। শাহবাগের আন্দোলনের সাথে ভিন্নমত পোষণ করে বলেছেন, যে মঞ্চে জয় বাংলা উচ্চারিত হয় সেই মঞ্চে আওয়ামী লীগের সাজেদা চৌধুরী লাঞ্ছিত হন, নিশ্চয়ই সেখানে কোন দুরভিসন্ধি রয়েছে।
জনাকীর্ণ এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি শ্রদ্ধার সাথে বঙ্গবীর এম এ জি ওসমানী, মরহুম অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, দেওয়ান ফরিদ গাজীকে স্মরণ করে বক্তব্য শুরু করেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, গত সোমবার শাহপরানের মাজার জিয়ারতে যাওয়ার সময় তাকে একটি সাজানো মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হয়। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সেখানে তাকে বক্তব্য রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তার বক্তব্যে তারা খুব বেশি খুশি হতে পারেননি বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা তাকে রাজাকার হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম মূসা, ব্যারিস্টার রফিকুল হক, ড. ইউনূস ও আকবর আলি খানের মত মানুষকে অপমান করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কোথায় যাচ্ছে দেশ তা ভাবার সময় এসেছে। যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন যাদেরকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিচার করা হচ্ছে এদের সাথেই তো আওয়ামী লীগ এক টেবিলে বসে আন্দোলন করেছে। সেই ছবিগুলো এখন প্রকাশিত হচ্ছে। তিনি বলেন, আইনের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি দিতে চাইলে তা এখনো বহু দূর। অবশ্যই বিচার করতে হলে ট্রাইব্যুনালের আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে হবে। সেটা নেই বলেই এখন লেজে গোবরে অবস্থা। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যুদ্ধাপরাধীর বিচার গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করার অপচেষ্টার অংশ কি না সেখানেও একটা প্রশ্ন থেকে যায়।
প্রশ্নবিদ্ধ ট্রাইব্যুনালের কথা উল্লেখ করে বলেন, ছাগল দিয়ে হাল চাষ হয় না। ট্রাইব্যুনাল গঠন করার আগে কারো সাথে আলাপ করা হয়নি। সরকার ট্রাইব্যুনাল তৈরি করে সরকার নিজেই ফাঁসির দাবি করে কি করে? যারা সাক্ষী দিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষে তারা সবাই দালাল। যারা তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছে তারা অথর্ব।
সংসদে প্রতিনিধিত্ব ও নিবন্ধিত দল হিসেবে জামায়াতের অবশ্যই রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে। কাদের সিদ্দিকী বলেন, গত ১৪ তারিখ তিনি বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করতে টুঙ্গিপাড়া গিয়েছিলেন। সেখানে ৪/৫ জন প্রবীণ মুরববী তার হাত ধরে বললেন, ‘বাবা শুনছি মসজিদে নাকি আর যাওয়া যাবে না'? তিনি সরকারের নিকট প্রশ্ন রেখে বলেন, ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে ধর্মপ্রাণ মুসলমানের দেশে এমন চিন্তা জন্ম নিল কেন? শাহবাগ আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সে দিন শাহবাগে ব্লগার রাজীবের জানাযা হলো। মুসলমানের জন্য জানাযা হলো ফরযে কেফায়া। জানাযায় নামায পড়া হয় চার তাকবিরে। কিন্তু ঐ দিনের দৃশ্যটা দেখে হৃদয় ভেঙ্গে গেছে।
তিনি বলেন, হিন্দু মুসলমান, ছেলে মেয়ে এক কাতারে এবং তিন তাকবিরে জানাযার নামায হয় কি করে? এটা কিসের লক্ষণ? কোথায় চলে যাচ্ছি আমরা? বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, ঝিমিয়ে পড়া জাতির অনুভূতিকে জাগ্রত করতে এই পড়ন্ত বয়সে যাত্রা শুরু করেছি। গুম হওয়া বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইলিয়াস নিখোঁজ হওয়ার পর এটাই তার প্রথম সিলেট সফর। ইলিয়াস আলী অপরাধী হয়ে থাকলে তাকে আইনের মাধ্যমে ফাঁসি দিলেও মেনে নেয়া যেতো। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিদ্বনদ্বীকে গুম করা হলো কেন? যে সরকার এত জনপ্রিয় নেতার খোঁজ দিতে পারে না তাদের ক্ষমতায় থাকার কোন অধিকার নেই।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম খা আলমগীর ও আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক আশিকুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান সরকারের সিএসপি অফিসার ছিলেন। তৎকালীন পাকিস্তানের ডিসি হিসেবে তাদের দায়িত্ব ছিলো রাজাকারদের তদারকি করা। তখন তারা চাকরি না ছেড়ে পাকিস্তান রক্ষায় সরকারের আনুগত্য মেনে কাজ করেছেন। সুতরাং গোলাম আযমদের ফাঁসির দাবি হলে এদেরও ফাঁসি দিতে হবে।
বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে চিহ্নিত রাজাকার হিসেবে উল্লেখ করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, পাকিস্তানের সাবেক স্পীকার ফজলুল কাদের চৌধুরীর ছেলে সা.কা চৌধুরীর মতোই ফরিদপুরের জমিদার নুরু মিয়ার পুত্র মোশাররফ। সুতরাং সাকা চৌধুরীর রাজাকার হিসেবে বিচার হলে রাজাকার মোশাররফেরও বিচার হতে হবে। এসময় সিনিয়র সাংবাদিক আল আজাদ এই বক্তব্যের প্রতিবাদ করে বলেন, সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আছে মোশাররফের বিরুদ্ধে কি সেই অভিযোগ আছে? বাবা অপরাধী বলে ছেলে অপরাধী হতে পারে না। এসময় কাদের সিদ্দিকী আল আজাদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনার এতো লাগছে কেন? আপনার তো এতো লাগার কথা না। আপনি তো সাংবাদিক।' এসময় আল আজাদ পুনরায় বলেন ‘আপনার মত মানুষের কাছ থেকে এমন বক্তব্য আশা করা যায় না।' অপর এক প্রশ্নের জবাবে কাদের সিদ্দিকী বলেন, দিগন্ত টেলিভিশন একটি প্রফেশনাল চ্যানেল। সেখানে যাওয়ার আগে এক বছর তাদের সাথে কথা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, দিগন্ত টেলিভিশনে আমি গোলাম আযম সম্পর্কে কথা বলতে যাই না, সেখানে মুক্তিযুদ্ধের কথা- বঙ্গবন্ধুর কথা বলতেই সেখানে যাই।